Sylhet লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Sylhet লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বাংলাদেশের দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারের একটি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার


বাংলাদেশের দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারের একটি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার। নতুন ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ এবং কৃষি প্রকৌশল কারিগরি অনুষদের মাঝখানে টিলার উপর লেকসাইডের কোল ঘেষে শহিদমিনারটি অবস্থিত। সিলেটে শহর থেকে বিভিন্ন মানুষ অর্ধ সমাপ্ত শহীদ মিনারটি দেখতে সিকৃবি ক্যাম্পাসে আসেন।

লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের সহকারী প্রফেসর স্থপতি রাজন দাশ শহীদ মিনারটির ডিজাইনার। তিনি এর নাম দিয়েছেন সূর্যালোকে বর্ণমালা। সকালে সূর্যালোকে মিনারটি ছায়াচ্ছন্ন অস্পষ্ট থাকে এবং সূর্যের দিন পরিক্রমায় ক্রমশ সে আলোকিত স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এদেশের বীর সন্তানরা এখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা যদি সূর্য সন্তান হন তবে দিনের প্রদক্ষিনে আলো, আঁধারের এই খেলা যেন সূর্যের সঙ্গে তার সন্তানদের অনির্বচনীয় কথপোকথন। এই মিনারের শিরোনাম তাই

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫

সুনামগঞ্জের মাথা নষ্ট কিছু যায়গা, যা চেনেনা অনেকেই

অনেকেই টাংগুয়ার হাওড়ে যায় কিন্তু জানেনা এর পাশেই কি মিস করছে! সবার প্রতি অনুরোধ সুনামগঞ্জ গেলেযাদুকাটা নদী, বারিক্কা টিলা, শাহ আরেফিনের মাজারের পেছনের ঝরনা, লাকমাছড়া, টেকেরঘাট চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির নীল পানির লাইমস্টোন হ্রদটা (আমরা নাম দিয়েছি নীলাদ্রী) দেখে আইসেন। অনেকেই এই যায়গা গুলো সম্পর্কে জানেনা, কিন্তু সত্যিই মন প্রশান্ত করে দেয়ার মত যায়গা। আর লাকমাছড়া ঝরনাটা বর্ষায় একেবারে সেম টু বিছানাকান্দি। ঝর্ণার শ্রোতে গোছল করতে পারবেন সাতার না জানা মানুষেরাও। বারেক টিলা থেকে টেকেরঘাটের রাস্তাটি চলে গেছে একেবারে মেঘালয়ের কোল ঘেষে, এক পাশে পহাড়ের মাথায় মেঘ আর পাথুরে রাস্তা, আর টেকের ঘাটে পৌছলে আরেক পাশে পাবেন বিস্তির্ন হাওড়। যায়গাটা সপ্নের মত লাগে।
 ঐখানকার ইত্তেফাক প্রতিনিধি সিদ্দিক ভাই এ ব্যাপারে খুবই হেল্পফুল। উনি ভ্রমনের ব্যাপারে আপনাদের হেল্প করবেন। একেতো উনি ওখানকার একজন প্রভাবশালী লোক, আর এই যায়গাগুলোকে পরিচিত করতে উনি দিন রাত পরিশ্রমও করে যাচ্ছেন। তাই নিরাপত্তা ও পথ নির্দেষনা দুটোর ওনার থেকে পাওয়া যাবে।
 আর মিঠু ভাই নামের একজন বাইক চালক আছেন উনি ঐ এলাকার প্রথম বাইক চালক। ওনার হাত ধরেই ঐ এলাকায় পর্যটকরা যাতায়াত শুরু করেছেন। উনি খুব ভাল গাইডও, কিন্তু গাইডনেসের জন্য পয়সা দিতে হয়না (আর ওখানে ঘুরতে গাইডের প্রয়োজনও নেই)। ওনাকে মটরসাইকেলের প্রচলিত ভাড়া দিলেই হবে। উনি টাংগুয়ার হাওরের জন্য কম দামে নৌকাও ঠিক করে দিতে পারবেন। বাড়তি কোন ঝামেলাই করতে হবেনা। সুনামগঞ্জ থেকে সব দেখে আবার সুনামগঞ্জ ফিরতে সারাদিনেরে জন্য ওনার বাইক নিয়ে নিলে দুইজনে ১০০০ টাকা দিলেই হবে। আর যদি মাঝে ছেড়ে দেন আবার আসার সময় ফোন দিয়ে নিয়ে আসেন তো ৮০০ই যথেস্ট। তবে সারাদিনের জন্য নিয়ে নেয়াই ভাল।
 
আপনি যদি সুনামগঞ্জ যেতে চান তাহলে আপনার একদিনের টুর প্লান হতে পারে এমন (বা শুরু করতে পারেন উল্টো দিক থেকেও):
 
#‎সুনামগঞ্জ থেকে বাইকে সাহ আরেফিনের মাজারে গিয়ে ঝরনা দেখা।
#‎সেখান খেকে লাউড়ের গড় বাজার (জাদুকাটার নৌকা ঘাট)।
#‎এরপর খেয়ায় নদী পাড় হয়ে বারেক টিলায় ঘোরাঘুরি। (খেয়া বারেক টিলার গায়েই ভিরবে)
#পরে টেকেরহাট চুনাপথর খনির নীল লেক (আমরা নাম দিয়েছি নিলাদ্রি), এই রাস্তাটি চলে গেছে একেবারে মেঘালয়ের কোল ঘেষে, এক পাশে পহাড়ের মাথায় মেঘ আর পাথুরে রাস্তা, সপ্নের মত লাগে- লেকে গোছল করে সেখান থেকে ভিজা ভবস্থাতেই বাইকে চড়ে লাকমাছড়া ঝরনা।#‎ঝরনার ঢলে গোছল করে কাপড় চেঞ্জ করে টেকেরঘাট বাজারের হোটেলে খাওয়া, পরে সেখান থেকে সন্ধায় ঐ বাইকেই তাহিরপুরের টাংগুয়ায় গিয়ে রাতে নৌকায় রাত্রি যাপন অথবা সুনামগঞ্জ ফেরত।
 
টেকেরঘাটে হোটেল আছে, ২০০ করে পারহেড, বাইক চালকই ঠিক করে দিতে পারবে। আর যদি কেউ চান মাজারে ভালো পরিবেশে ৪-৬ জন ফ্রি থাকার ব্যাবস্থা করে দেয়া যাবে।
 
 
Credit-  Redwan Khan

পাহাড়, নদী এবং চা বাগানের এক অসাধারণ সমন্বয় লালাখাল

    পাহাড়, নদী এবং চা বাগানের এক অসাধারণ সমন্বয়
    লালাখাল। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দুরত্বে
    অবস্থিত এই লালাখালের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে
    বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর নদীগুলোর একটি সারি নদী।
    এই নদীর পানি বছরের বেশীরভাগ সময় নীলাভ সবুজ থাকে,
    বিশেষ করে শীতকালে সবুজাভ রং বেশী উজ্জ্বল দেখায়। এই নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছে Nazimgarh Nature Park। এই
    পার্কের অন্যতম আকর্ষন হল আধুনিক তাবুতে রাতি যাপন।
    সারিবদ্ধ তাবুগুলোর সামনের বিস্তৃত খোলা মাঠে আয়োজন
    করা হয় বারবিকিউ পার্টি, ক্যাম্প ফায়ারিং এবং নানা
    ধরনের খেলাধূলা সহ অনেক কিছু। প্রতিটি তাবুতে ২-৩ জন
    থাকার জন্য আছে আলাদা বিছানা, আসবাবপত্র এবং পূর্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। তাবু গ্রাউন্ডের পাশেই বালুময় সৈকত
    এবং নিলাভ সবুজ সারি নদীতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কেনু-   
    কায়াকিং এবং বোট রাইডের ব্যাবস্থা আর পার্কের ভিতরে
    আছে এটিভি বাইকে ঘুরার ব্যাবস্থা।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

কোয়ারী লেক, টেকেরঘাট, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ

কোয়ারী লেক, সুনামগঞ্জ

কিভাবে_যাবেনঃ
ঢাকা থেকে শ্যামলী/মামুন/এনা বাস যায় সুনামগঞ্জ ভাড়া ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ থেকে নতুন ব্রীজ পার হয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে হবে। চাইলে টেকেরঘাট পর্যন্ত সরাসরি মোতর সাইকেল রিসারভ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা নিতে পারে আর মাঝপথে যাদুকাটা নদী পার হতে মানুসের ভাড়া ৫ টাকা আর মোটর সাইকেল এর ভাড়া ২০ টাকা। এছাড়া আপনি সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়ের গড় পযন্ত মোটর সাইকেলে করে যেতে পারেন ভাড়া ২০০ টাকা তারপর যাদুকাটা নদী পাড় হয়ে বারিক্কা টিলা থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় টেকেরঘাট যেতে পারবেন। এখানে উল্লেখিত মোটর সাইকেল এর ভাড়া যেটা উল্লেখ আছে সেটা পুরা বাইকের ভাড়া মানে একটা বাইকে ২ জন যেতে পারবেন। তবে মোতর সাইকেলের ভাড়া আগে দামাদামি করে নিবেন ওরা বেশি চায়। যতটা সম্ভব কমিয়ে নেওয়াই ভালো।

কোথায়_থাকবেনঃ
বড়ছড়া বাজারে রেস্ট হাউজ আছে ২০০-৪০০ টাকায় থাকা যায়। বারিক্কা টিলা পাড় হয়েই বড়ছড়া বাজার।চাইলে টেকেরঘাট থেকে হেটেও আসতে পারবেন বড়ছড়া বাজারে। এছাড়াও লেকের পাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি চুনা পাথরের কারখানা আছে তার গেস্ট হাউজে থাকতে পারবেন যদি খালি থাকে।

কোথায়_খাবেনঃ
বারিক্কা টিলাতে খাবারের হোটেল আছে, এছাড়াও বড়ছড়া বাজারে খেতে পারেন অথবা লেকের পাশেই টেকেরঘাট একটা ছোট বাজার আছে একটা মাত্র হোতেল আছে খাবারের। অবশ্যই আগে দাম জেনে খাবেন।

সতর্কতাঃ
যেহেতু সীমান্ত এলাকা তাই সাবধানে থাকুন। সীমানার খুব কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো। আর লেকের পানিতে সাতার না জানলে না নামাই ভালো। নাম্লেও বেশি দূরে যাবেন না। কারন এখান থেকে খুব পরিমানে চুনা পাথর উঠানো হতো যার ফলে লেক অত্যাধিক গভীর।

20-10-2015: live Update বিছানাকান্দি যারা যাবেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি

বিছানাকান্দি যারা যাবেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, আমি আজ বিছনাকান্দি থেকে ঘুরে আসলাম। ২২ তারিখ যারা যাবেন, যাওয়ার আগে একটু চিন্তাভাবনা করে যাবেন।
বিছনাকান্দি এখন পানি নেই বললেই চলে, শুধু ধূ ধূ বালি আর শুকনো নূড়ি পাথরের স্তুপ ছাড়া কিছুই নাই। বর্ষায় বিছনাকান্দির যে সৌন্দর্য থাকে এখন তা অনেকাংশেই বিলীন। ছবিটা আজকে তোলা।

আমার পরামর্শ, যদি বিছনাকান্দির প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতেই চান তাহলে এবছর না এসে আগামী বর্ষায় আসুন। না হলে আমি নিশ্চিত অনেকেই হতাশ হবেন।
ধন্যবাদ।By
Atik Tarif

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

বিছনাকান্দি তথ্য

বর্ণনাঃ


 ঘননীল আকাশ। সামনে সারি সারি পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের কুন্ডলী। নৈকট্যে গেলে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। মেঘের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণা। নিচে নেমে জল ও পাথরের সম্পর্কে শাঁ শাঁ শব্দ। সেই জলই আবার মিশে যাচ্ছে পিয়াইনের সাথে। পাথরে পাথরে বন্ধুত্ব। পাথরে ও নদীতে মিতালি। পাথরে মানুষে জীবনযাপনের যুদ্ধ। চারিদিকে বিস্তৃত সবুজ। পাহাড়ে পাহাড়ে সবুজের জলকেলি। বিস্তির্ণ মাঠে সবুজের চাদর। এগুলো দৃশ্যকল্প নয়, সিলেটের বিছনাকান্দি জুড়ে এমন দৃশ্য যেন সত্যিই কেউ ফ্রেম বন্দি করে লটকে দিয়েছে আকাশের সাথে। দূর থেকে মনে হবে এই মেঘ, এই মানুষ, এই পাহাড়-নদী কিংবা পাথরের স্থিরচিত্রই এগুলো।দুই পাশে আকাশচুম্বী পাহাড়, তার মাঝে বয়ে চলা ঝরনার স্রোত। পানি একেবারে পরিষ্কার, স্বচ্ছ, এবং টলমলে। আর ছোট-বড় নানান আকৃতি আর রঙের পাথর তো আছেই। পানি এত স্বচ্ছ যে পানির তলার পাথর কিংবা নিজের ডুবে থাকা পা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়।

কিভাবে যাবেন:
১) ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে করে সিলেটে যাওয়া যায়।
২) সিলেট শিশু পার্কের বা আম্বরখানার সামনে থেকে পাওয়া যায় গোয়াইনঘাটগামী লেগুনা অথবা সিএনজি অটো রিক্সা। ভাড়া ৮০-১০০টাকা। গোয়াইনঘাট থেকে হাদারপার বাজার যেতে হবে সিএনজি অটো রিক্সায়। ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। হাদারপার থেকে নৌকা নিয়ে যেতে হবে বিছনাকান্দিতে। ভাড়া যাওয়া আসা ৮০০-১০০০+ টাকা। সিলেট শহর থেকে সিএনজি নিয়ে জেতেপারেন রিজার্ভ ১২০০-১৫০০ টাকা।


কখন যাবেন:
সারা বছর যাওয়া যায় তবে বর্ষা কালে গেলে আসল রুপ দেখা যায়।বর্ষাকাল বলেই নৌকায় যাতায়াত করা যায়, শুকনা মৌসুমে এক ঘন্টার মত হাটতে হয় । জায়গাটায় পৌছার পর কিছুক্ষণ বিমুগ্ধ নয়নে শুধু চেয়ে ছিলাম। সত্যিকার অর্থেই ছবির চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। 

কোথায় থাকবেনঃ

সিলেট শহরে থাকা খাওয়ার জন্য অনেক হোটেল আছে। মান ও অন্যান্য সুবিধা ভেদে ভাড়া ৫০০-৬৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কোথায় খাবেনঃ

খাবার জন্য  শাহজালাল (রা.) দরগার আসে পাশে অনেক হোটেল আছে । তবে পাঁচ ভাই , পানশি ইত্যাদি খুব সুপরিচিত।এবং বিছনাকান্দির হাদাড়পার বাজারে পাকশি রেস্টুরেন্ট এ ও খেতে পারেন।

আশেপাশের দর্শনিয় স্থানঃ
লালাখালা, পান্থুমাই, লক্ষনছরা, ইত্যাদি আছে, সময় থাকলে যেতে পারেন রাতারগুল।

টিপসঃ

১) গ্রুপ করে গেলে ভাল ।
২) খাবারের জন্য আগে দাম জিজ্ঞেস করে নেয়া উচিত ।
৩) রিক্সা চালকদের ড্রাইভার বলে ডাকবেন, মামা বা অন্য কিছু না বলাই ভাল।
৪) বর্ষাকালে গেলে রেইন কোট , ছাতা নিয়ে যাবেন।
৫) ভারতীয় সিমানার কাছাকাছি তাই  সীমানার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন ।
৬) আমাদের প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের তাই বিছনাকান্দিতে কোন চিপ্স,চানাচুর বা পানির বোতল ফেলে আসবেন না।

By Fazlay Rabby

Sylhet Tour- সিলেট ভ্রমন

সিলেট জেলায় ঘোরাঘুরির যায়গা গুলো দেখতে এই নোট  পড়তে পারেন  ( সিলেট জেলায় ঘোরাঘুরির যায়গা গুলো )

অনেকেই এই সময় সিলেট যাচ্ছেন দেখে গত বছরের পোস্টটা আজকে নোট করে দিলাম।  বর্ষায় সিলেটে যাওয়ার সুবিধে হচ্ছে এপার থেকেও ভারতের ঝর্না দেখতে পারবেন;  শুধু বৃষ্টি বেশি হলে পাহাড়ি ঢলে বিচানাকান্দী ভয়াবহ হয় আর কি ( বর্ষার শেষে গিয়ে যত সুন্দর পাবেন; ভরা বর্ষায় বিছানাকান্দী এত সুন্দর পাবেন না )  বর্ষাকালে বিছানাকান্দী ( Click here )

অক্টোবর ; ২০১৪
রাতারগুল- বিছানাকান্দি ঘুরে আসলাম এই ট্যুরে; সাথে ৭/৮ জনের গ্রুপ । এর আগে সিলেট ২বার যাওয়া হয়েছে ।
তখন জাফলং- তামাবিল - হরিপুর গ্যাসফিল্ড- আগুনের পুকুর/পাহাড়/কালো পাহাড়(নাম খেয়াল নাই) দেখা হয়েছে । গত ৩বারের সিলেট ট্যুরের অভিজ্ঞতা থেকেই লিখছি ------
.
সিলেট গেলে প্রথমেই CNG/ রিকশাওয়ালাদের মুখ থেকে যেটা শুনবেন সেটা হচ্ছে সিলেট নাকি "আরেক লন্ডন" ; এখানে সবকিছুর জন্যই নাকি আপনাকে বেশী টাকা দিতে হবে। কিন্তু আমি গত ৩বার গিয়েও একথার কোন যুক্তি খুঁজে পাইনাই !! বরং সিলেটের যে কোন কিছুর খরচ ঢাকা/ চিটাগাং থেকে সস্তা মনে হয়েছে( বিশেষ করে খাবার)। আসলে এসব বলার মানেই হলো আপনার থেকে বেশী টাকা আদায় করা। আমাদের কথা শুনে সহজেই ওরা বুঝে আমরা সিলেটী না আর তখনই ডাবল টাকা আদায় করে।
* রিকশা থেকে শুরু করে নৌকা/প্রাইভেট গাড়ী ভাড়া সবকিছুতেই আপনাকে Negotiation করতে হবে। একটু শক্ত না হলে ধরা খেতে হবে !
খাওয়া দাওয়াঃ
----------------------
সিলেটের মতো এতো ভালো- কম দামে খাবার আমি দেশের কোথাও পাই নাই।  
পাঁচ ভাই/পানসী তে সারাদিন ৩ বেলা খেয়েও একজন ১০০০ টাকা বিল তুলতে পারবে কিনা সন্দেহ !!
*সকালের নাস্তা পানসীতে করতে পারেন( নেহারি-মুরগির সুপ-খিচুরি অবশ্যই খাবেন)। পানসীর পরিবেশ খুবই ভালো। সন্ধায় পানসীর জুস কর্নারের সামনে আড্ডা দিতে পারবেন। খাবারের দাম দেখে আপনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাইবেন না এতো কমে কীভাবে হোটেল চালায় !!
*পাঁচ ভাই হোটেলের খাবারও ভালো । দাম পানসীর মতোই । তবে পানসীর মতো হোটেলের পরিবেশ এতোটা ভালো না । পানসীর জুস কর্নার/বসার স্পেস ভালো-একটু খোলামেলা ।
* সিলেটে মাছের আইটেমের দাম বেশী মনে হয়েছে ।
* পানসীর খাবারের দাম নীচে ছবি দিয়ে দিলাম ।
* আপনি পান না খেলেও সিলেটে গেলে অবশ্যই মিষ্টি পান খাবেন ।
* পানসী/পাঁচ ভাই জিন্দা বাজারের কাছেই। দরগাহ(মাজার) থেকে ১০ টাকা রিকশাভাড়া ।
*পানসী/পাঁচ ভাই ছাড়া শহরের ভিতরে/ভাইরে অন্য হোটেলে গেলে অবশ্যই খাবারের দাম ভালোভাবে জেনে নিবেন। রেল স্টেশন /বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশের দোকানে দাম অনেক বেশি

যাতায়াতঃ
-------------- 
রাতারগুলঃ
------------------------------
জিন্দা বাজার/ দরগাহ গেট/আম্বারখানা টু রাতারগুল CNG ২৫০ টাকা যাওয়া, রিজার্ভ করে নিয়ে যাওয়া ভালো; রাতারগুল থেকে CNG পাওয়া যাবেনা । যাওয়া-আসা ৫০০ টাকা । এক CNG তে পাঁচ জন নেয় ওরা । আপনি রাতারগুল কতক্ষন থাকবেন সেটা জানিয়ে আরো কিছু বাড়িয়ে দিবেন ।
* CNG কে অবশ্যই মেইন রাতেরগুল নিয়ে যেতে বলবেন । রাতেরগুল ৩গ্রামের মাঝে; ৩ পথ দিয়েই ঢোকা যায় শুনছি । মোটরঘাট দিয়ে রাতেরগুলে ঢুকতে চাইলে ভরা বর্ষা ছাড়া রাতেরগুল যাওয়া সম্ভব না( ট্যুর বৃথা )। নৌকা ভাড়া ১০০-২০০ তেই হয়। ওরা ৭০০/১০০০ পর্যন্ত বলে !! সবই আপনার দর কষাকষি করতে হবে ভাই !!
এক নৌকায় ৫ জন বসা যায় । আপনাকে ভয় দেখিয়ে বলতে পারে এক নৌকায় ৩ জনের বেশী হয়না; যাতে ওদের কষ্ট কম হয়; আরেকটা নৌকাও নেয়া হয় ।
* রাতারগুলে নির্মাণাধীন ওয়াচটাওয়ার দেখতে পাবেন। ( কোন টাকা লাগেনা ) ;
* নৌকা ছাড়া ঘাট/ব্রিজ কোথাও কোন টাকা লাগেনা রাতেরগুলের ভিতরে ।
* কোন গাইডের প্রয়োজন নাই রাতেরগুলে ।
* দুপুরের রোদ বেশী হয় বলে ঘাটে বাচ্চারা ছাতা ভাড়া দেয় । ছাতা দরকার হলে দর কষাকষি করে ভাড়া করবেন( না হয় নিজে নিয়ে যাবেন) । অনেক সময় নৌকার মাঝি আপনাকে ছাতা ব্যাবহার করতে দিবে । আসার সময় দেখবেন ছাতা ভাড়ার জন্য বেশী টাকা চেয়ে বসবে :3 ভিতরে গাছপালা আছে বলে ছাতা না নিলেও চলে ।
* রাতেরগুল দুপুরের মধ্যে দেখা শেষ হলে সেখান থেকে বিছানাকান্দি চলে যেতে পারেন।( শহর থেকে CNG ভাড়ার থেকে রাতেরগুল-- বিছানাকান্দি ভাড়া কম। সিলেট-বিছানাকান্দির মাঝের রোড দিয়ে ভিতরে গেলে রাতারগুল )
.
বিছানাকান্দিঃ
-----------------------.
* জিন্দা বাজার/ দরগাহ গেট/ আম্বারখানা থেকে হাদারপার CNG ৪০০ টাকা যাওয়া(৫ জন)(*২০১৪, অক্টোবরের হিসাব), আপনি যদি সিলেট শহর থেকে শুধু হাদারপার/ বিছানাকান্দি যেতে চান তাহলে রিজার্ভ করার কোন দরকারই হবেনা। সিলেট টু হাদারপার বাজার CNG সন্ধার পরও চলাচল করে । লোকাল একজন ৮০ টাকা । এক সিএনজিতে ৫*৮০=৪০০ টাকা ।

*হাদারপার/হাদারঘাট থেকে ২০/২৫ মিনিট মাটির রাস্তা- ধান ক্ষেতের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিছানাকান্দি চলে যাবেন । শীতের সময় ধুলা থাকে । মহিলা/শিশু না থাকলে ৪০০/৫০০ টাকা নৌকা ভাড়া করে যাওয়ার কোন মানে হয়না। পাহাড়ের টানে আপনি হাঁটতে হাঁটতে বিছানাকান্দি চলে যাবেন :) কোন গাইডের দরকার নিই । স্থানীয় অনেক মানুষ দেখবেন পথে । ওদের বললেও দিক নির্দেশনা দিয়ে দিবে . বিছানাকান্দি বাজারের আশেপাশেই অনেক স্থানীয় মানুষ থাকে ; ওদের মতো করেই কম খরচে যাতায়াত করবেন। ৩/৪ গুন খরচ দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কি ?? পোস্টার নিচে ম্যাপ দেখলেই বুঝবেন যে নৌকা ছাড়াও রাস্তা যায়

* শুক্রবার বর্ডারে( ভারতের বাজার) হাট বসে। ভারতীয় কাঁঠাল/কমলা/ ফল নাকি সস্তা ( আমরা বাজার পাইনি)। হাট থেকে নেশা/মাদকদ্রব্য কিছু সস্তায় পেলেও কিনবেন না। এগুলো অনেকসময় ভেজাল থাকে আর এসব কিনে ফেরার পথে বিজিবির চেক হয়। ধরা পরলে তো বুঝেনই !! :v
* মূল্যবান কিছু নিয়ে ভারতের বাজারে না যাওয়াই ভালো। এক পোস্টে দেখলাম এক জনের দামি ক্যামেরা ওপাশে রেখে দিছে।
* বিছানাকান্দির জন্য অবশ্যই অতিরিক্ত কাপড়/তোয়ালে এবং ভেজা কাপড় আনার জন্য পলিথিন নিয়ে যাবেন( পাশের দোকানে পলিথিন পেতেও পারেন) । শীতকালে পানি কমে যায় ।
* খুব কাছ থেকে দুই দেশের বর্ডার পিলার দেখবেন । নির্জন স্থান হলেও ভারতের অংশে না যাওয়াই ভালো । ওপারের কোন দুর্ঘটনার জন্য বিজিবি/ বাংলাদেশ দ্বায় নিবেনা সেটা তো বুঝেনই !!
* সন্ধার ১ ঘণ্টা আগেই বিছানাকান্দি থেকে রওনা দিন যদি হেঁটে ফিরতে চান । রাতের অন্ধকারে হাদারপার বাজার পথ চিনতে কষ্ট হবে। হাদারপার থেকে রাতেও সিএনজি পাবেন ।

আমরা সকালে দরগাহ গেট(মাজার) থেকে মাইক্রো ভাড়া করে রাতারগুল- বিছানাকান্দি ঘুরে সন্ধায় শহরে আসি। ২৭০০ টাকা নিয়েছিল(চেয়েছিল ৪০০০) । আপনি চেষ্টা করলে আরো কমাতে পারবেন ।
* প্রাইভেট গাড়ী নিয়েও যাতে পারবেন; রাস্তা একটু খারাপ । বাস নিয়ে গেলে সমস্যা হবে ।
---------------------------------------------------------------------------------
* চা বাগানে কর্মচারীদের থেকে চা না কেনাই ভালো। আমার দেখা মতে ওদের চাই সবথেকে বাজে । ( বলতে গেলে যা মনে হয় কারখানার ঝাড়ু দেয়া ময়লা চা পাতা বিক্রি করে )
চা কিনতে হলে মাজারগেটের দুপাশে অনেক দোকান দেখবেন । ভালো চা বড় দানাদার হয় ।
*সিলেটে ট্রেনে আসলে শ্রীমঙ্গল-লাউয়াছরা;চা বাগান দেখতে দেখতেই আসবেন।
* চা বাগানে ঢুকে কখনোই নারী কর্মীদের ছবি তুলবেন না; ওদের তোলা চা পাতা ভর্তি ব্যাগ/মাথার হ্যাট না ধরাই ভালো; এতে ওরা বিরক্ত হয় । গাইডরাই কথা বলতে মানা করে দিবে ।
*অনুমতি ছাড়া চা বাগানে ধুকবেন না । অনেক বাগানে গাইড আছে ; ওদের কিছু টাকা দিয়ে ভিতরে ঘুরতে হয় । রাতারগুল-বিছানাকান্দির পথেই মালিনছরা চা বাগানে ঘুরতে পারেন

জাফলং থেকে কয়েকশো গুন সুন্দর মনে হয়েছে বিছানাকান্দি । আর * তামাবিল ০ পয়েন্ট দেখার কিচ্ছু নাই( মানুষের কৌতূহল) | এর থেকে ভালো আপনি ওই রোড অর্ধেক পথেই লালাখাল ঘুরে আসেন :)
তবে তামাবিল রোড থেকে পাশেই ইন্ডিয়ার পাহাড়ের ঝরনা দেখতে পারবেন বর্ষাকালে। একটা রিসোর্টও আছে রাস্তার পাসে যেখান থেকে দূরের বর্ডারের ঝর্না দেখা যায়  হরিপুর পরিত্যাক্ত গ্যাসফিল্ড-পুকুরের মাঝে আগুন আসলে তেমন কিছু না। পুকুর থেকে বুদবুদ করে গ্যাস বের হয় । আগুন দিলে জ্বলে আরকি । কাছে আরেকটা পাহাড় আছে ওটা এমনই । আপনার যদি সময় থাকে তাহলে দেখতে পারেন । ১দিন রাতারগুল, বিছানাকান্দি ; আরেকদিন জাফলং-তামাবিল-হরিপুর
*জাফলং গেলে ড্রাইভারকে অবশ্যই জাফলং-এর শেষ পর্যন্ত গাড়ী নিয়ে যেতে বলবেন ; নাহয় ঘাটে নামিয়ে দিবে; ওখান থেকে আবার অতিরিক্ত নৌকাভাড়া দিয়ে জাফলং যেতে হবে .
*( লালাখাল দেখা হয়নাই; কোন আইডিয়া নাই । তবে জাফলং যাওয়ার মাঝ পথে সারিঘাট এ নেমে নৌকা নিয়ে যেতে হয় শুনেছি )

*হোটেল*
----------------------

শুক্র বার/শনিবার অনেকে মাজারে যায় বলে বুকিং না দেয়া থাকলে হোটেল পাওয়া  কষ্ট ! হোটেলের ব্যবস্থা না করে বৃহস্পতিবার সিলেটে যাওয়া অনেক বড় বোকামি হবে।

দরগাহগেট( মাজারের রাস্তা) ,আম্বরখানার আশেপাশে অনেক হোটেল আছে। হোটেল ডাবল রুম ৪০০-৭০০+ এর মধ্যে দেখেছিলাম তখন।  আমাদের ৪টা রুমের প্রয়োজন ছিল ; যতদুর খেয়াল আছে টোটাল ভাড়া থেকে ১০০০ টাকার মতো কমাতে পেরেছিলাম। (খুব যদি বিপদে পরেন/হোটেল আগের থেকে ম্যানেজ করতে না পারেন; তাহলে রিক্সা/অটো ড্রাইভারদের বলবেন। কেমন মানের হোটেল দরকার বুঝিয়ে বললে ওরাই দেখবেন নিয়ে যাবে  )     সরকারী চাকুরিজীবি/তাদের পরিবারের সদস্য হলে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, রেস্ট হাউজে থাকা যাবে ; খরচ অনেক কম কিন্তু সেটাও আগের থেকে জানিয়ে যেতে হবে।

--------------------------------------------------------------------------------------
সব শেষে যেই অনুরোধ । আমরা সভ্য মানুষ; সব বুঝে শুনেও বারবার অসভ্য মানুষের মতো কাজ করি (*প্রচন্ড ক্ষোভ থেকেই অসভ্য বললাম*) ।চিপাচাপা থেকে তথ্য নিয়ে বিছানাকান্দি যেতে পারি আর পরিবেশ নোংরা করলে যে কি ক্ষতি হয় এটা না বোঝার মতো অবুঝ নিশ্চয়ই কেউ না !! বিছানাকান্দি গিয়ে দেখি আগে পিকনিকে আসা মানুষের খাবারের প্যাকেট !! সাইনবোর্ডে লেখা থাকলেও কারো দৃষ্টি নাই !!
আপনার পানির বোতল/ চিপসের প্যাকেট/সিগারেট/খাবারের প্যাকেট বিছানাকান্দি ফেলে আসবেন না । পারলে অন্যের ফেলে যাওয়া জিনিস ব্যাগে করে নিয়ে আসেন। আমি তো বলবো যদি কাউকে পরিবেশ নোংরা করতে দেখেন তাহলে কানে ধরে শিক্ষা দেন !! -_-
আর ঘুরতে গিয়ে অবশ্যই স্থানীয় মানুষের সাথে ভালো ব্যাবহার করুন।
সিলেটীদের ব্যাবহার ভালো; হেল্পফুল।

সিলেটের মানুষ আর ভাষার প্রতি আমার আবার অন্যরকম টান আছে :)

by-Asif Rahman

সিলোটি মাত (সিলেটি কথা)

সিলেট আসার আগে কমন কিছু সিলেটি মাত (কথা) শিখে নিন। অবশ্যই কাজে লাগবে।
আপনে কই যাইতা? ( আপনি কোথায় যাবেন)
আমি মাধবকুন্ড যাইতাম ( আমি মাধবকুন্ড যাবো)
কই তাকি আইছইন? (কোথা থেকে আসছেন)
আমি ঢাকা থাকি আইছি (আমি ঢাকা থেকে আসছি)
এই যাইবায় নি বা মাধবকুন্ডত? (এই যাবেন নাকি মাধবকুন্ডে)
জিওয় যাইমু (হ্যাঁ যাবো)
ভাড়া খত বা? ( ভাড়া কত টাকা)
খালি যাওয়া না যাওয়া-আওয়া? ( শুধু যাবেন নাকি গিয়ে আবার আসবেন)
ভাড়া ১০০ ওইবো ( ভাড়া ১০০ টাকা দিবেন)
অত বেশি খেনে? (এত বেশি কেন)
ইগুতো নরমাল রেট (এটা নরমাল ভাড়া)
একটু খমানি যায় নানি? (একটু কমানো যায়না)
না ভাই কম ওইতো নায় (না ভাই কম হবেনা)
না রেবা ইলা ওইতো নায় (না এটা হবেনা)
আচ্ছা তুড়া কম দিলাইবা (আচ্ছা একটু কম দিয়ে দিবেন)
কাঠালতলীর রাস্তা কোনবায় দি ভাই? ( কাঠালতলীর রাস্তা কোনটা ভাই)
ওবায়দি সুজা যাক্বা (এদিক দিয়ে সোজা যাবেন)
ইতার দাম কিলা? (এটার দাম কত)
অত দাম কেনে বা? (এত দাম কেন)
কিছু কমানি যায় নানি (কিছু কমানো যায় না)
না ভাই পারতাম নায় (না ভাই পারবোনা)
আচ্ছা তে আর নিমু কিলা রেবা (তাহলে আর নেই কি করে)
বক্কা খাইয়া যাইবা (বসেন খেয়ে যাবেন)
কিতা আছে তরকারী? (কি আছে তরকারী)
আপনি কিতা দিয়া খাইবা? (আপনি কি দিয়ে খাবেন)
ঝাল ফ্রাই আছে... আছে আপনে কিতা খাইবা? (ঝাল ফ্রাই... আছে আপনি কি খাবেন)
আমারে ঝাল ফ্রাই দিলাইয়ো (আমাকে ঝাল ফ্রাই দিবেন)
লগে আর কিচ্ছু খাইবা নি? (সাথে আর কিছু খাবেন)
না আর কিচ্ছু খাইতাম নায় (না আর কিছু খাবোনা)
বিল কত টাকা ওইছে বা?(বিল কত টাকা হয়েছে)
ভাই হোটেলোর ভাড়া কত? (ভাই হোটেলের ভাড়া কত)
আইজ আমরা হোটেল ছাড়ি দিমু (আজ আমরা হোটেল ছেড়ে দিবো)
ইকান থাকি সিলেট যাইতাম কিলা? (এখান থেকে সিলেট যাবো কিভাবে)
সিএনজিয়ে গেলে কত টাকা ভাড়া ওইবো (সিএনজিতে গেলে কত টাকা ভাড়া লাগবে)
আপনে কিতা কইন আমি বুজিয়ার না (আপনি কি বলেন আমি বুঝি না)
আচ্ছা ভাই তে যাই এখন (ওকে ভাই তাহলে এখন আসি)
আর কিছু জানতে চাইলে প্রশ্ন করুন -
feriowala@gmail.com

-Abdullah Al Amran

সিলেট সফরনামা (ধারাবাহিক নাটক)

যেকোন ভ্রমনের শুরুতেই প্রথম কাজ হচ্ছে প্ল্যানিং। আপনি যদি গন্তব্য সম্পর্কে সঠিক ধারনা না রাখেন তবে কিভাবে সেটা করবেন? আর সঠিক প্ল্যানিং ছাড়া কিভাবে সফল হবে আপনার ট্যুর। ভাবনা কি দেখে নিন সিলেট শহর থেকে বিভিন্ন পিকনিক স্পটের দূরত্ব। তো বাবা এবার নাকে তৈল দিয়ে প্ল্যানিং করুন।

সিলেট শহর থেকে বিভিন্ন জায়গার দূরত্ব জেনে নিন। আপনার পিকনিক প্ল্যানিং এ মারাত্মক কাজে দিবে।
  • জাফলং - ২ ঘন্টার রাস্তা
  • পাংতুমাই - ৩ ঘন্টা প্রায় (রাস্তা সরু এবং খারাপ)
  • বিছনাকান্দি - ২ ঘন্টা (রাস্তা খারাপ)
  • শাহ পরানের মাজার - ১ ঘন্টা (সর্বোচ্চ)
  • শাহ জালালের মাঝার - হোটেলের সাপেক্ষে ৫ থেকে ১০ মিনিট (রিক্সাযোগে)
  • কীন ব্রিজ - হোটেলের সাপেক্ষে ৫ থেকে ১০ মিনিট (রিক্সাযোগে)
  • রাতারগুল - ২ ঘন্টা
  • মাধবকুন্ড - ৩ প্রায় (বড়লেখা যেতে ২ ঘন্টা লাগবে)
  • শ্রীমঙ্গল - ২ ঘন্টা
  • সুনামগঞ্জ -২ ঘন্টা
  • মৌলভীবাজার -২ ঘন্টা
  • সিলেট থেকে কুলাউড়া - ২ঘন্টা (ট্রেন হলে ১ ঘন্টা)

এছাড়া ট্রেনে করেও আপনি যেতে পারেন - কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, শমসেরনগর .....

বাড়তি বোনাস
মাধবকুন্ড দেখে ফেরার সময় যে যে জায়গায় যেতে আপনার সময় লাগবে
  • বড়লেখা থেকে মৌলভীবাজার - ২ ঘন্টা
  • বড়লেখা থেকে কুলাউড়া - ৪৫ মিনিট
  • বড়লেখা থেকে শ্রীমঙ্গল - ৩ ঘন্টা
  • বড়লেখা থেকে হাকালূকি হাওর - ১ ঘন্টা

বড়লেখা থেকে কোন ট্রেন সার্ভিস নাই।

সিলেটে কোথায় উঠবেন?
সিলোট আইছোইন ভালা কথা এখন কই উঠতা? আহারে ! 
সিলেট:
  • হোটেল সুপ্রিম, মিরাবাজার, সিলেট (পরিবার নিয়ে হলে)
  • হোটেল ইষ্ট এন্ড, তালতলা, সিলেট (ছাত্র এবং কুমার ভাইদের জন্য) ফোন: ০৮২১-৭১৯২১২
বড়লেখা:
থাকার মতো হাতে গোনা কিছু হোটেল আছে কিন্তু মান তেমন ভাল হবেনা। নিজের বাড়িতো তাই খরচের ব্যপারে আইডিয়া নাই।
কুলাউড়া:
থাকার মতো তেমন ভাল কিছু পাবেন না। কিছু বোডিং আছে। খরচ খুবই কম।
শ্রীমঙ্গল:
হোটেলে ভরপুর এই শহরটি। এখনো থাকার অভিঞ্জতা হয়নি।
সুনামগঞ্জ:
সাবধান এখানে ভাল কোন হোটেল তো দূরে কথা ভাল রেস্টুরেন্টই পাবেন না।
জাফলং:
  • হোটেল গার্ডেন, মামার বাজার, জাফলং, সিলেট। ফোন: ০১৮১২-৩০০১২০
মৌলভীবাজার:
  • হোটেল পাপরিকা, সিলেট রোড, মৌলভীবাজার। ফোন: ০৮৬১- ৬২২২০, ০১৭১১০৩৫৫৩৯

* ধারাবাহিক ভাবে এটা আরো আপডেট করা হবে এবং যোগাযোগের নাম্বার দেওয়া হবে। অপেক্ষায় থাকুন।

কোথায় খাবেন?
সিলেট আসছেন আর রেস্টুরেন্টের অভাবে না খেয়ে থাকবেন ! প্রশ্নই আসেনা। মনে রাখবেন এটা ঢাকা নয় সিলেট !
  • হোটেন পানসী, জিন্দাবাজার সিলেট (খাবার শেষে পান খেয়ে যাবেন কিন্তু)
  • হোটেল পাঁচভাই, জিন্দাবাজার, সিলেট
  • আলপাইন, চৌহাট্টা, সিলেট
  • প্রীতিরাজ, জিন্দাবাজার, সিলেট
  • প্রেসিডেন্ট, উপশহর মেইন পয়েন্ট, সিলেট
  • সাফরন, শিবগঞ্জ,সিলেট।
* ভাই সাহেব, আরো রেস্টুরেন্টের নাম চান? সিলেট কিন্তু রেস্টুরেন্টের শহর। সমঝদার কেলিয়ে ইশারাই কাফি হে।

কিছু মারাত্মক পরামর্শ
  • চেষ্টা করবেন মাজারের আশেপাশে কোন হোটেলে না থাকতে। আরে ওরা তো দা নিয়ে আপনাদের জন্য বসে আছে ভাই। যাবেন আর জবাই দিবে। সাবধান।
  • সিলেট শহরটা খুব ছোট চেষ্টা করবেন হেটে বেড়াতে। বিশেষ করে কীন ব্রিজ কিংবা শাহ জালালের মাজারে চেষ্টা করবেন হেটে হেটে যেতে যদি আপনার সাথে মহিলা না থাকে।
  • ঢাকার মতো খুব ভোরে সিলেট শহর জাগেনা তাই খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে লাভ নাই :(
  • জাফলং, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পাংথুমাই এইসব স্পটে যাওয়া এবং আসার পথে শাহ পরানের মাজার পড়বে। যদি দেখতে চান তবে আসার সময় দেখে আসবেন। খরচ বাচঁবে।
  • লালাখালে দিনটা মাঠি করবেন না। ওখানে সবকিছু দেখতে মাত্র ঘন্টা খানেক লাগে। বালুরচর ছাড়া আর কোথাও নামার দরকার নাই। বড়জোড় ২ ঘন্টার জন্য নৌকা ভাড়া করুন।
  • জাফলং থেকে ঘুরে আসার পথে লালখাল দেখতে পারবেন। খরচ বাচবে।ওখানে খাবার নিয়ে যাবার দরকার নাই। আরে ভাই আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দয্য উপভোগ করতে যাচ্ছেন ; খেতে তো যাচ্ছেন না।
  • মাধবকুন্ড গেলে দুপুরে যাবার চেষ্টা করবেন। বিকাল হলে অন্ধকার হয়ে যায়।
  • হাকালুকি হাওরে বিকাল বেলা ঘুরতে মজা।
  • চেষ্টা করবেন সিলেটি ভাষায় একটু একটু কথা বলতে। কিভাবে বলবেন - মুখ দিয়ে বলবেন :)
www.facebook.com/notes/travelers-of-bangladesh/সিলোটি-মাত-সিলেটি-কথা/10152962526626790

* নিজের খেয়ে আর কত পরামর্শ দেই ভাই। মনে মনে একটা ধন্যবাদ দিয়ে দিয়েন কিন্তু।

বি:দ্র: উপরে উল্লেখিত হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে আমার থাকা এবং খাওয়ার পূর্ব অভিঞ্জতা আছে বিধায় আমি তাদের নাম প্রকাশ করছি। হয়তো আমার অগোচরে আরো অনেক ভাল হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট থাকতে পারে। তাছাড়া উল্লেখিত হোটেল এবং রেস্টুরেন্টের মান সব সময় একই নাও পেতে পারেন। সুতরাং অবশ্যই এবং অবশ্যই যাচাই করবেন।


Credit-  Abdullah Al Amran

জাফলং ভ্রমনের সব তথ্য

১. জাফলং-এ দর্শনীয় স্থান কি কি আছে? জায়গাটা কেন বিখ্যাত?
- অগণিত লোক নদীর নিচ থেকে পাথর তুলছে আর এটাই তাদের জীবিকা...এত পাথর কই থেকে আসে তার যদিও কোন উত্তর মিলে না... দেখার মত আছে পাহাড়ের (সবই ভারতের) গা ঘেষে বয়ে যাওয়া জাফলং নদী
২. এটি কোথায় অবস্থিত?
৩. কিভাবে যেতে হয়? ভাড়া কত?
- ঢাকা টূ সিলেট ট্রেন ভাড়া এখন শোভন চেয়ার ২৯৫ টাকা, শোভন ২৪৫টাকা। যেতে লাগে ৬-৬.৫ ঘণ্টা। সেখান থেকে সোবহানী ঘাটে যেতে হবে। সোবহানী ঘাটে থেকে বাস ছাড়ে...ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা...সময় লাগে ২ ঘণ্টা থেকে ২.৫ ঘণ্টা...যেখানে নামিয়ে দেয় সেখান থেকে রিকশায় নদীর পাড় পর্যন্ত ১০ টাকা।
৪. থাকার জায়গা আছে কোথায় কাছাকাছি?
- জাফলং এ থাকার তেমন কোন জায়গা নেই। ক্যাফে সিংগ্রাম্পুঞ্জি নামের একটা রেস্টুরেন্ট আছে খাবারের জন্য কিন্তু বিকালের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়।
৫. কি রকম খরচ হবে?
৬. জাফলং-এর কাছাকাছি আর কি কি দর্শনীয় স্থান আছে?
- নৈসর্গিক দৃশ্যের লীলাভূমি ভোলাগঞ্জ 

যারা সিলেটের জাফলং দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন তাদের জন্য আদর্শ জায়গা ভোলাগঞ্জ। মালনীছড়ার চা বাগানের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে যা চোখে পড়ে তা ভুলবার নয়। প্রায় ৫০ কি.লো পথজুড়েই মেঘালয়ের আকাশচুম্বি পাহাড়ের খেলা। সেই মেঘালয় পাহাড়ের গায়ে অসংখ্য ছোট বড় দুমা ফলস। পথের দুধারেই নদী। তার পানি দেখলেই শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। নদীর নীল আর পাহাড়ের আবছা নীল যেন মিশে একাকার হয়ে গেছে। যেতে যেতে মনে হবে এ বোধহয় আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের একটি। নিজের অজান্তেই গেয়ে উঠবেন প্রিয় কোন গান। ভোলাগঞ্জে যাবার পর পৌছে যাবেন একেবারে সীমানার দিকে। দেখবেন বর্ডার গার্ডস এর সৈন্য সামন্ত দাঁড়িয়ে আছে। অদূরেই ভারতের চেরাপুঞ্জি।


Credit- Raw Hasan
 

Blogger news

Blogroll

About